
সৈয়দ জাহিদুজ্জামান :
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার ৫৮টি পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এসকে আজিজুল বারী হেলাল। এ সময় তিনি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য সবার আন্তরিকতা কামনা করেন। এরপরে উপজেলার ৫৮টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে তাঁর বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্য শষ্য এবং মন্দিরের সেবায়তের জন্য উপহার তুলে দেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের সোনাকুড় গোবিন্দ সেবাশ্রমে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় আমার হিন্দু ভাইয়েরা উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। দিঘলিয়া উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমার দল ও দলের নেতাকর্মীরা সব সময় আপনাদের পাশে আছে।”
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভালোবাসার প্রতীক। উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশ গুপ্ত বলেন, “শ্রী রামচন্দ্র যেমন দেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য অকালে দেবীর বোধন ও পূজার আয়োজন করেছিলেন, তেমনি আপনাদের সংসদ সদস্যও আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন এবং মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব যেন সবাই আনন্দ ও স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসব উদযাপনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জামাল হুসাইন এবং জেলা বিএনপির সদস্য ইকবাল হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব পালন করে আসছেন। শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শরীফ ইকবাল হোসেন, শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, মোল্লা বেলাল হোসেন, গাজী জাকির হোসেন, শেখ মোসলেম উদ্দিন, খন্দকার ফারুক হোসেন, শেখ আবুল কালাম আজাদ, মো. মুকিত মীর, জাসেদ কবির জুয়েল, শাফি উদ্দিন সাফি, সাইফুল ইসলাম সানি, মোল্লা নাজমুল হক, আব্দুল কাদের জনি, সুলতান মাহমুদ লাল্টু, লিটন, আব্দুল্লাহ আল নিপু, আলম চৌধুরী ও বাদশা গাজীসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সৌমিত্র দত্ত, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য দিলীপ দাস, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলার ৫৮টি পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল উপজেলার ৫৮টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে তাঁর বরাদ্দকৃত অর্থ খাদ্য শস্য বিতরণ করেন। এ সময় আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
Leave a Reply